বিজেপির পথসভা ঘিরে উত্তেজনাকর পরিস্থিতি , সংঘর্ষ তৃণমূলের সাথে : উত্তেজনা নিয়ন্ত্রণে পুলিশ

13th December 2020 5:54 pm বর্ধমান
বিজেপির পথসভা ঘিরে উত্তেজনাকর পরিস্থিতি , সংঘর্ষ তৃণমূলের সাথে : উত্তেজনা নিয়ন্ত্রণে পুলিশ


পিন্টু প‍্যাটেল ( বর্ধমান ) : বিজেপি র আয়োজিত পথসভাকে কেন্দ্র করে তৃণমূলের সাথে বচসা ও সংঘর্ষের ঘটনাকে ঘিরে উত্তেজনা ছড়ালো বর্ধমান পৌরসভার ১৪ নম্বর ওয়ার্ডে র ছোটনীলপুর পীরতলা এলাকায় । বিজেপি ও তৃণমূল ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে একে অপরের দিকে দোষারোপের আঙুল তুলেছে । পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ঘটনাস্থলে আসে বর্ধমান থানার পুলিশ বাহিনী ‌। পুলিশের হস্তক্ষেপে শান্ত হয় পরিস্থিতি । গতকাল রাতে শালবাগান এলাকায় বিজেপির দলীয় কার্যালয়ে আগুন ধরিয়ে দেয় দুষ্কৃতীরা । বিজেপির অভিযোগ তৃণমূল কর্মীরাই এই ঘটনা ঘটিয়েছে । দলীয় কার্যালয়ে আগুন ধরিয়ে দেওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে ই একটি প্রতিবাদ সভার ডাক দেওয়া হয় ওই এলাকায় । সেখানেই তৃণমূলের বেশ কিছু কর্মী গিয়ে তাদের অনুমতি আছে কি না কর্মসূচী করার তার জবাবদিহি করেন । তা নিয়েই শুরু হয় বচসা ও মারপিট । যদিও তৃণমূলের অভিযোগ , দল ও মুখ‍্যমন্ত্রীর নামে কটুক্তি করছিল বিজেপি কর্মীরা । তার ই প্রতিবাদ করেন এলাকার সাধারণ মানুষ । প্রতিরোধ করলে বিজেপি চলে যায় । দলীয় কার্যালয় ভাঙার ও চেষ্টা করে তারা বলে অভিযোগ । দু জন কর্মীকে মারধোর করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন প্রাক্তন কাউন্সিলর তৃণমূল নেতা গৌরীশঙ্কর ভট্টাচার্য । তাঁর অভিযোগ , বিজেপি অহেতুক অশান্তি তৈরী করতে চাইছে । মানুষ তা কখনোই মানবে না । তারা প্রতিরোধ তৈরী করেছে । যদিও বিজেপি নেতা শ‍্যামল রায় এর দাবী , পুলিশকে জানিয়েই তারা কর্মসূচী করছিলেন । অনুমতি আছে কি নেই তা তৃণমূলের দেখার কোনো এক্তিয়ার নেই । কর্মসূচী পন্ড করার জন‍্য ই তারা অশান্তি করেছে বলে দাবী বিজেপির । এদিকে গতকাল রাতে ১৩ নম্বর ওয়ার্ডে বেচারহাট বাইপাস এলাকায় তৃণমূলের দলীয় কার্যালয়েও হামলা চালানো হয় । অভিযোগের তীর বিজেপির দিকে । যদিও বিজেপি যুব মোর্চার সভাপতি শুভম নিয়োগী জানিয়ে দেন , বিজেপি ওই ধরনের নোংরা রাজনীতি করে না । তৃণমূলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব এর কারনেই তাদের কর্মীরাই ভাঙচুর করেছে । পরপর ঘটনাকে ঘিরে রবিবার দিনভর উত্তেজনা বর্ধমান পৌরসভার একাধিক ওয়ার্ডে ।





Others News

MEMARI . একবছর আগে আবেদন করেও মেলেনি জাতিগত শংসাপত্র : হন‍্যে হয়ে ঘুরছেন মা

MEMARI . একবছর আগে আবেদন করেও মেলেনি জাতিগত শংসাপত্র : হন‍্যে হয়ে ঘুরছেন মা


প্রদীপ চট্টোপাধ্যায় ( বর্ধমান ) : প্রায় এক বছর আগে আবেদন করেও মেয়ের জাতিগত শংসাপত্র মেলেনি । আবেদনকারীদের জাতি শংসাপত্র দেওয়ার
ক্ষেত্রে দেরি করা যাবেনা বলে জানিয়ে দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী।কিন্তু বাস্তবে ঠিক তার উল্টোটাই ঘটে চলেছে।প্রায় এক বছর আগে  চতুর্থ শ্রেণীতে পাঠরত মেয়ের ওবিসি শংসাপত্র পাওয়ার জন্য নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে  আবেদন করেছিলেন মা।কিন্তু মেয়ে কে পঞ্চম শ্রেণীতে ভর্তির সময় এগিয়ে আসলেও জাতি  শংসাপত্র আজও না মেলায় কার্যত হতাশ হয়ে পড়েছেন পূর্ব বর্ধমানের মেমারির রাধাকান্তপুর নিবাসী ঊর্মিলা দাস।ওবিসি শংসাপত্র পাবার জন্য ঊর্মিলাদেবী বৃহস্পতি বার মেমারি ১ ব্লক বিডিও অফিসে লিখিত ভাবে আবেদন জানিয়েছেন। শংসাপত্র পাবার জন্য বিডিও সাহেব কি ব্যবস্থা করেন সেদিকেই এখন তাকিয়ে ঊর্মিলাদেবী। 

বিডিওকে লিখিত আবেদনে ঊর্মিলাদেবী জানিয়েছেন ,তাঁর স্বামী মানিক দাস দৃষ্টিহীন প্রতিবন্ধী ।বছর ১০ বয়সী তাঁদের একমাত্র কন্যা গ্রামের বিদ্যালয়ে চতুর্থ শ্রেণীতে পাঠরত কালে তাঁর ওবিসি শংসাপত্র পাবার জন্য তিনি নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে চলতি বছরের ২৪ জানুয়ারী আবেদন করেছিলেন।  উর্মিলাদেবী বলেন ,তার পর থেকে দীর্ঘ সময় পেরিয়ে  গেলেও তিনি তাঁর মেয়ের ওবিসি শংসাপত্র পান না।মেয়ের পঞ্চম শ্রেণীতে ভর্তির সময় এগিয়ে আসায় গত অক্টোবর মাসের শেষের দিকে তিনি শংসাপত্রের বিষয়ে মেমারি ১ ব্লকের বিডিও অফিসে খোঁজ নিতে যান।জাতি শংসাপত্র বিষয়ের বায়িত্বে থাকা বিডিও অফিসের আধিকারিক তাঁকে অনলাইনে এই সংক্রান্ত একটি নথি বের করে আনতে বলেন । অনলাইনে সেই নথি বের করেনিয়ে তিনি ফের ওই আধিকারিকের কাছে যান । তা দেখার পর ওই আধিকারিক তাঁকে  ২০ দিন বাদে আসতে বলেন । ঊর্মিলাদেবী বলেন , তিনি ২৫ দিন বাদে যাবার পর ওই আধিকারিক তাঁকে গোপগন্তার ২ গ্রাম পঞ্চায়েতে গিয়ে খোঁজ নেবার কথা বলেন । তিনি এরপর গ্রামপঞ্চায়েত অফিসে খোঁজ নিতে যান । নথি ঘেঁটে পঞ্চায়েত কর্তৃপক্ষ জানিয়ে দেয় তাঁর মেয়ের নামে কোন ওবিসি শংসাপত্র পঞ্চায়েতে আসে নি।ঊর্মিলাদেবী দাবী করেন ,এই ভাবে তিনি একবার বিডিও অফিস , আবার পঞ্চায়েত অফিসে দরবার করে চলেন । কিন্তু তাতে কাজের কাজ কিছু হয় না। মেয়ের ওবিসি শংসাপত্র পাবার জন্য  গত ১৩ ডিসেম্বর ফের তিনি বিডিও অফিসে যান ।ওই দিনও বিডিও অফিসের জাতি শংসাপত্র বিষয়ক বিভাগের আধিকারিক তাঁকে একই ভাবে পঞ্চায়েত অফিসে খোঁজ নিতে যেতে বলে দায় সারেন। পরদিন তিনি পঞ্চায়েত অফিসে খোঁজ নিতে গেলে পঞ্চায়েত কর্তৃপক্ষ ফের জানিয়ে দেয় তাঁর মেয়ের নামে  ওবিসি শংসাপত্র পঞ্চায়েতে আসে নি । কেন মেয়ের জাতি শংসাপত্র পাচ্ছেন না সেই বিষয়ে  না পঞ্চায়েত না ব্লক প্রশাসনের কর্তৃপক্ষ কেউই তাঁকে কিছু জানাতে পারেন । ঊর্মিলাদেবী বলেন ,পঞ্চম শ্রেণিতে ভর্তির আগে তার মেয়ে যাতে ওবিসি শংসাপত্র পেয়ে যায় তার ব্যবস্থা করার জন্য এদিন তিনি বিডিওর কাছে লিখিত ভাবে আবেদন জানিয়েছেন । মেমারী ১ ব্লকের বিডিও আলী মহম্মদ ওলি উল্লাহ এদিন বলেন ,“জাতি শংসাপত্র পাবার জন্য হাজার হাজার আবেদন জমা পড়ছে । তবে ঊর্মিলাদেবীর কন্যা দ্রুত যাতে বিবিসি শংসাপত্র দ্রুথ পান সেই বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে “। মেমারির বিধায়ক মধুসূদন ভট্টাচার্য্য বলেন,’মেমারি  বিধানসভা এলাকার আবেদনকারীরা দ্রুত যাতে জাতি শংসাপত্র পান সেই বিষয়ে প্রশাসনকে আরও তৎপর হওয়ার কথা বলবো’।